শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬, ০৫:০৬ অপরাহ্ন
সংসদ ভবন, ফাইল ছবি ভয়েস ডেস্ক:
নিষিদ্ধ ঘোষিত একটি উগ্রবাদী সংগঠনের সদস্যরা জাতীয় সংসদ ভবনসহ দেশের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলা করতে পারে বলে সতর্ক করেছে পুলিশ সদর দপ্তর।
বৃহস্পতিবার বাহিনীর ইউনিট প্রধানদের কাছে পাঠানো এ সংক্রান্ত এক বার্তায় ‘নিরাপত্তা জোরদারের’ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
পুলিশ সদর দপ্তরের ওই বার্তায় সুনির্দিষ্ট করে উগ্রবাদী সংগঠনের নাম বলা হয়নি, তবে সম্প্রতি সংগঠনটির ইসতিয়াক আহম্মেদ সামী ওরফে আবু বক্কর ওরফে আবু মোহাম্মদ নামে এক সদস্যকে গ্রেপ্তারের তথ্য দেওয়া হয়েছে।
কবে, কোন ইউনিটের তরফে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে তাও বার্তায় স্পষ্ট করা হয়নি।
‘নিষিদ্ধ ঘোষিত উগ্রবাদী সংগঠনের সমর্থক কর্তৃক গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলার পরিকল্পনা সংক্রান্ত’ বার্তায় বলা হয়েছে, গ্রেপ্তার ইসতিয়াকের সঙ্গে চাকরিচ্যুত দুই সেনাসদস্যের নিয়মিত যোগাযোগের তথ্য পাওয়া গেছে।
তারা রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় বোমা বিস্ফোরণ, দেশীয় ধারালো অস্ত্র কিংবা আগ্নেয়াস্ত্র দিয়ে হামলা করতে পারে বলে জানতে পেরেছে পুলিশ সদর দপ্তর।
গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার মধ্যে জাতীয় সংসদ, বাংলাদেশ পুলিশ বা সেনাবাহিনীর স্থাপনা ও তাদের সদস্য, ধর্মীয় উপাসনালয়, বিনোদনকেন্দ্র, শাহবাগ চত্বরের কথা বলা হয়েছে ওই বার্তায়।
নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনটির সদস্যরা বিভিন্ন বাহিনীর অস্ত্রাগারে হামলার পরিকল্পনাও করে থাকতে পারে জানিয়ে চিঠিতে বলা হয়, এসব ব্যক্তি দেশের সার্বিক নিরাপত্তার জন্য ‘অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ’।
এ পরিস্থিতিতে গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোর নিরাপত্তা জোরদারের পাশাপাশি নজরদারি বৃদ্ধি ও সন্দেহভাজনদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে পুলিশ সদর দপ্তর।
পুলিশ সদর দপ্তরের এআইজি পদমর্যাদার এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করে বলেন, “আমাদের কনফিডেন্সিয়াল বিভাগ থেকে এ ব্যাপারে একটি চিঠি ইস্যু করা হয়েছে। চিঠিটি প্রতিটি ইউনিটে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। তারা কাজ করছে।”
পুলিশ সদর দপ্তরের আরেক কর্মকর্তা বলেছেন, এ ধরনের সতর্কতা নিয়মিত সতর্কতামূলক ব্যবস্থারই অংশ।
জাতীয় সংসদ ভবন, শাহবাগের নিরাপত্তার বিষয়ে কোনো বাড়তি প্রস্তুতি রয়েছে কি না, জানতে চাইলে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের প্রধান শফিকুল ইসলাম বলেছেন, এমন কোনো চিঠি তিনি এখনো পাননি।
তবে তিনি বলেন, “এরকম কিছু যদি থাকে, তাহলে হয়তো কোনো ইন্টেলিজেন্সের ভিত্তিতে দিয়েছে। আমরা তো এমনিতেই সতর্ক আছি।
“আমরা বাড়তি নিরাপত্তা নেব, হয়তো তল্লাশি করব…আসলে কীভাবে বা কোথা থেকে এটা, একটু অ্যানালাইসিস করার পর আমাদের করতে হবে।”
বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের সময় তৎকালীন ডিএমপি কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী ‘দেশে জঙ্গি নেই’ বলে মন্তব্য করে আলোচিত হন। এমনকি ‘আওয়ামী লীগের সময় জঙ্গি নাটক সাজিয়ে ছেলেপেলেদের মারছে, কীসের জঙ্গি’ এমন মন্তব্যও তিনি করেন।
সাজ্জাত আলী ডিএমপি কমিশনার থাকা অবস্থাতেই গত ৩১ জানুয়ারি জঙ্গি সন্দেহে রাজধানী জিয়া উদ্যান থেকে গ্রেপ্তার করা হয় আহসান জহির খান (৫০) নামের এক ব্যক্তিকে। ওই ঘটনায় শেরেবাংলানগর থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা করে পুলিশ।
তাকে গ্রেপ্তারের সূত্র ধরে পরবর্তীতে আরও চারজনকে গ্রেপ্তারের তথ্য দেয় সিটিটিসি।
এই মামলাতেই গেল ২ এপ্রিল নিষিদ্ধ ঘোষিত সন্ত্রাসী সংগঠন ‘নব্য জেএমবির’ সঙ্গে জড়িত হবিগঞ্জ থেকে এক শিশুটিকে হেফাজতে নেওয়ার কথা জানায় ডিএমপি।
পরদিন ডিএমপির সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছিল, জিয়া উদ্যান থেকে গ্রেপ্তার আহসান জহির ও তার সহযোগীদের সঙ্গে হবিগঞ্জ থেকে হেফাজতে নেওয়া ওই শিশুর যোগাযোগ আছে।
সে ঘনিষ্ঠ সহযোগীদের মাধ্যমে শিয়া মসজিদ, পুলিশের চেকপোস্ট ও ইসকন মন্দিরে হামলার পরিকল্পনা ও উসকানি দিত বলে দাবি করছে পুলিশ।
এবার উগ্রবাদী সংগঠনের আরেক সদস্যকে গ্রেপ্তারের কথা জানিয়ে দেশজুড়ে ‘সতর্কতার নির্দেশনা’ দিল পুলিশ সদর দপ্তর।
সূত্র: বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
ভয়েস/জেইউ।